us senate office of public records android ear spy pro link press north carolina criminal law phone number directory assistance phone number in sql database greene county ohio property information
আত্মপরিচয়
তাহাকেই আমি সমাজের দুঃস্বপ্ন বলিয়া মনে করি — এই কারণে তাহাই জটিল , তাহাই অদ্ভুত অসংগত , তাহাই মানবধর্মের বিরুদ্ধ ।

হিন্দু শব্দে এবং মুসলমান শব্দে একই পর্যায়ের পরিচয়কে বুঝায় না । মুসলমান একটি বিশেষ ধর্ম কিন্তু হিন্দু কোনো বিশেষ ধর্ম নহে । হিন্দু ভারতবর্ষের ইতিহাসের একটি জাতিগত পরিণাম । ইহা মানুষের শরীর মন হৃদয়ের নানা বিচিত্র ব্যাপারকে বহু সুদূর শতাব্দী হইতে এক আকাশ , এক আলোক , এক ভৌগোলিক নদনদী অরণ্য - পর্বতের মধ্য দিয়া , অন্তর ও বাহিরের বহুবিধ ঘাতপ্রতিঘাত - পরম্পরার একই ইতিহাসের ধারা দিয়া আজ আমাদের মধ্যে আসিয়া উত্তীর্ণ হইয়াছে । কালীচরণ বাঁড়ুজ্যে , জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুর , কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় খ্রীস্টান হইয়াছিলেন বলিয়াই এই সুগভীর ধারা হইতে বিচ্ছিন্ন হইবেন কী করিয়া ? জাতি জিনিসটা মতের চেয়ে অনেক বড়ো এবং অনেক অন্তরতর ; মত পরিবর্তন হইলে জাতির পরিবর্তন হয় না । ব্রহ্মাণ্ডের উৎপত্তিসম্বন্ধে কোনো একটা পৌরাণিক মতকে যখন আমি বিশ্বাস করিতাম তখনও আমি যে জাতি ছিলাম তৎসম্বন্ধে আধুনিক বৈজ্ঞানিক মত যখন বিশ্বাস করি তখনও আমি সেই জাতি । যদিচ আজ ব্রহ্মাণ্ডকে আমি কোনো অণ্ডবিশেষ বলিয়া মনে করি না ইহা জানিতে পারিলে এবং সুযোগ পাইলে আমার প্রপিতামহ এই প্রকার অদ্ভুত নব্যতায় নিঃসন্দেহ আমার কান মলিয়া দিতেন ।

কিন্তু চীনের মুসলমানও মুসলমান , পারস্যেরও তাই , আফ্রিকারও তদ্রূপ । যদিচ চীনের মুসলমানসম্বন্ধে আমি কিছুই জানি না তথাপি এ কথা জোর করিয়াই বলিতে পারি যে , বাঙালি মুসলমানের সঙ্গে তাহাদের ধর্মমতের অনেকটা হয়তো মেলে কিন্তু অন্য অসংখ্য বিষয়েই মেলে না । এমন - কি , ধর্মমতেরও মোটামুটি বিষয়ে মেলে কিন্তু সূক্ষ্ম বিষয়ে মেলে না । অথচ হাজার হাজার বিষয়ে তাহার স্বজাতি কন্‌ফ্যুসীয় অথবা বৌদ্ধের সঙ্গে তাহার মিল আছে । পারস্যে চীনের মতো কোনো প্রাচীনতর ধর্মমত নাই বলিলেই হয় । মুসলমান বিজেতার প্রভাবে সমস্ত দেশে এক মুসলমান ধর্মই স্থাপিত হইয়াছে তথাপি পারস্যে মুসলমান ধর্ম সেখানকার পুরাতন জাতিগত প্রকৃতির মধ্যে পড়িয়া নানা বৈচিত্র্য লাভ করিতেছে — আজ পর্যন্ত কেহ তাহাকে ঠেকাইয়া রাখিতে পারিতেছে না ।

ভারতবর্ষেও এই নিয়মের ব্যতিক্রম হইতে পারে না । এখানেও আমার জাতিপ্রকৃতি আমার মতবিশেষের চেয়ে অনেক ব্যাপক । হিন্দুসমাজের মধ্যেই তাহার হাজার দৃষ্টান্ত আছে । যে - সকল আচার আমাদের শাস্ত্রে এবং প্রথায় অহিন্দু বলিয়া গণ্য ছিল আজ কত হিন্দু তাহা প্রকাশ্যেই লঙ্ঘন করিয়া চলিয়াছে ; কত লোককে আমরা জানি যাঁহারা সভায় বক্তৃতা দিবার ও কাগজে প্রবন্ধ লিখিবার বেলায় আচারের স্খলন লেশমাত্র সহ্য করিতে পারেন না অথচ যাঁহাদের পানাহারের তালিকা দেখিলে মনু ও পরাশর নিশ্চয়ই উ দ্‌বি গ্ন হইয়া উঠিবেন এবং রঘুনন্দন আনন্দিত হইবেন না । তাঁহাদের প্রবন্ধের মত অথবা তাঁহাদের ব্যাবহারিক মত , কোনো মতের ভিত্তিতেই তাঁহাদের হিন্দুত্ব প্রতিষ্ঠিত নহে , তাহার ভিত্তি আরো গভীর । সেইজন্যই হিন্দুসমাজে আজ যাঁহারা আচার মানেন না , নিমন্ত্রণ রক্ষায় যাঁহারা ভাটপাড়ার বিধান রক্ষা করেন না , এবং গুরু বাড়ি আসিলে গুরুতর কাজের ভিড়ে যাঁহাদের অনবসর ঘটে , তাঁহারাও স্বচ্ছন্দে হিন্দু বলিয়া গণ্য হইতেছেন । তাহার একমাত্র কারণ এ নয় যে হিন্দুসমাজ দুর্বল — তাহার প্রধান কারণ এই যে , সমস্ত বাঁধাবাঁধির মধ্যেও হিন্দুসমাজ একপ্রকার অর্ধচেতন ভাবে অনুভব করিতে পারে যে , বাহিরের এই - সমস্ত পরিবর্তন হাজার হইলেও তবু বাহিরের — যথার্থ হিন্দুত্বের সীমা এইটুকুর মধ্যে কখনোই বদ্ধ নহে ।

যে কথাটা সংকীর্ণ বর্তমানের উপস্থিত অবস্থাকে অতিক্রম করিয়া বৃহৎভাবে সত্য , অনেক পাকা লোকেরা তাহার উপরে কোনো আস্থাই রাখেন না । তাঁহারা মনে করেন এ - সমস্ত নিছক আইডিয়া । মনে করেন করুন কিন্তু আমাদের সমাজে আজ এই আইডিয়ার প্রয়োজনই সকলের চেয়ে বড়ো প্রয়োজন । এখানে জড়ত্বের আয়োজন যথেষ্ট আছে যাহা পড়িয়া থাকে , বিচার করে না , যাহা অভ্যাসমাত্র , যাহা নড়িতে চায় না তাহা এখানে যথেষ্ট আছে , এখানে কেবল সেই তত্ত্বেরই অভাব দেখিতেছি , যাহা সৃষ্টি করে , পরিবর্তন করে , অগ্রসর করে , যাহা বিচিত্রকে অন্তরের দিক হইতে মিলাইয়া এক করিয়া দেয় । হিন্দুসমাজ ব্রাহ্মসমাজের