here mobile phone monitoring cell phone spyware best press how track phone without permission cel phone tracer quick phone cell phone spy software platinum suite cheating spouse android app to spy on girlfriend cheating spouse apps for android phone spys iphone spy apps itunes device how to spy on text link iphone spy wife phone tracker worldwide how to locate phone by gps spy apps for lg text message spy blackberry spying on track spouse iphone site how cell phone monitoring software works can i spy someone phoneusing my cell phone buy spyware for cell phone cheater i phone spy fbi cell phone spying how to spy on others cell phone here spy on phone with other phone apps to spy on someone elses phone Блог Лидочки
হিন্দু-বিশ্ববিদ্যালয়

কিন্তু আধুনিক শিক্ষিত সমাজেই এই ভাবটা বাড়িয়া উঠিতেছে কেন , এ প্রশ্ন স্বতই মনে উদিত হয় । শিক্ষা পাইলে বুদ্ধিবৃত্তির প্রতি লোকের অনাস্থা জন্মে বলিয়াই যে এমনটা ঘটে তাহা আমি মনে করি না । আমি পূর্বেই ইহার কারণ সম্বন্ধে আলোচনা করিয়াছি ।

শিক্ষিত সম্প্রদায়ের মধ্যে আমাদের স্বাতন্ত্র্য-অভিমানটা প্রবল হইয়া উঠিতেছে । এই অভিমানের প্রথম জোয়ারে বড়ো একটা বিচার থাকে না , কেবল জোরই থাকে । বিশেষত এতদিন আমরা আমাদের যাহা - কিছু সমস্তকেই নির্বিচারে অবজ্ঞা করিয়া আসিয়াছি — আজ তাহার প্রবল প্রতিক্রিয়ার অবস্থায় আমরা মাঝে মাঝে বৈজ্ঞানিক বিচারের ভান করি , কিন্তু তাহা নির্বিচারেরও বাড়া ।

এই তীব্র অভিমানের আবিলতা কখনোই চিরদিন টিঁকিতে পারে না — এই প্রতিক্রিয়ার ঘাত প্রতিঘাত শান্ত হইয়া আসিবেই — তখন ঘর হইতে এবং বাহির হইতে সত্যকে গ্রহণ করা আমাদের পক্ষে সহজ হইবে ।

হিন্দুসমাজের পূর্ণ বিকাশের মূর্তি আমাদের কাছে প্রত্যক্ষ ব্যাপার নহে । সুতরাং হিন্দু কী করিয়াছে ও কী করিতে পারে সে সম্বন্ধে আমাদের ধারণা দুর্বল ও অস্পষ্ট । এখন আমরা যেটাকে চোখে দেখিতেছি সেইটেই আমাদের কাছে প্রবল । তাহা যে নানারূপে হিন্দুর যথার্থ প্রকৃতি ও শক্তিকে আচ্ছন্ন করিয়া তাহাকে বিনাশ করিতেছে এ কথা মনে করা আমাদের পক্ষে কঠিন । পাঁজিতে যে সংক্রান্তির ছবি দেখা যায় আমাদের কাছে হিন্দু সভ্যতার মূর্তিটা সেই রকম । সে কেবলই যেন স্নান করিতেছে , জপ করিতেছে , এবং ব্রত উপবাসে কৃশ হইয়া জগতের সমস্ত কিছুর সংস্পর্শ পরিহার করিয়া অত্যন্ত সংকোচের সঙ্গে এক পাশে দাঁড়াইয়া আছে । কিন্তু একদিন এই হিন্দু সভ্যতা সজীব ছিল , তখন সে সমুদ্র পার হইয়াছে , উপনিবেশ বাঁধিয়াছে , দিগ্‌বিজয় করিয়াছে , দিয়াছে এবং নিয়াছে ; তখন তাহার শিল্প ছিল , বাণিজ্য ছিল , তাহার কর্মপ্রবাহ ব্যাপক ও বেগবান ছিল ; তখন তাহার ইতিহাসে নব নব মতের অভ্যুত্থান , সমাজবিপ্লব ও ধর্মবিপ্লবের স্থান ছিল ; তখন তাহার স্ত্রীসমাজেও বীরত্ব , বিদ্যা ও তপস্যা ছিল ; তখন তাহার আচার - ব্যবহার যে চিরকালের মতো লোহার ছাঁচে ঢালাই করা ছিল না মহাভারত পড়িলে পাতায় পাতায় তাহার পরিচয় পাওয়া যায় । সেই বৃহৎ বিচিত্র , জীবনের - বেগে - চঞ্চল , জাগ্রত চিত্তবৃত্তির তাড়নায় নব নব অধ্যবসায়ে প্রবৃত্ত হিন্দু সমাজ — যে সমাজ ভুলের ভিতর দিয়া সত্যে চলিয়াছিল ; পরীক্ষার ভিতর দিয় া সিদ্ধান্তে ও সাধনার ভিতর দিয়া সিদ্ধিতে উত্তীর্ণ হইতেছিল ; যাহা শ্লোকসংহিতার জটিল রজ্জুতে বাঁধা কলের পুত্তলীর মতো একই নির্জীব নাট্য প্রতিদিন পুনরাবৃত্তি করিয়া চলিতেছিল না ; বৌদ্ধ যে সমাজের অঙ্গ , জৈন যে সমাজের অংশ ; মুসলমান ও খ্রীস্টানেরা যে সমাজের অন্তর্গত হইতে পারিত ; যে সমাজের এক মহাপুরুষ একদা অনার্যদিগকে মিত্ররূপে গ্রহণ করিয়াছিলেন , আর - এক মহাপুরুষ কর্মের আদর্শকে বৈদিক যাগযজ্ঞের সংকীর্ণতা হইতে উদ্ধার করিয়া উদার মনুষ্যত্বের ক্ষেত্রে মুক্তিদান করিয়াছিলেন এবং ধর্মকে বাহ্য অনুষ্ঠানের বিধিনিষেধের মধ্যে আবদ্ধ না করিয়া তাহাকে ভক্তি ও জ্ঞানের প্রশস্ত পথে সর্বলোকের সুগম করিয়া দিয়াছিলেন ; সেই সমাজকে আজ আমরা হিন্দুসমাজ বলিয়া স্বীকার করিতেই চাই না — যাহা চলিতেছে না তাহাকে আমরা হিন্দুসমাজ বলি ;— প্রাণের ধর্মকে আমরা হিন্দুসমাজের ধর্ম বলিয়া মানিই না , কারণ , প্রাণের ধর্ম বিকাশের ধর্ম , পরিবর্তনের ধর্ম , তাহা নিয়ত গ্রহণ -ব র্জনের ধর্ম ।

এই জন্যই মনে আশঙ্কা হয় যাঁহারা হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করিতে উদ্‌যোগী , তাঁহারা কিরূপ হিন্দুত্বের ধারণা লইয়া এই কার্যে প্রবৃত্ত ? কিন্তু সেই আশঙ্কামাত্রেই নিরস্ত হওয়াকে আমি শ্রেয়স্কর মনে করি না । কারণ , হিন্দুত্বের ধারণাকে তো আমরা নষ্ট করিতে চাই না , হিন্দুত্বের ধারণাকে আমরা বড়ো করিয়া তুলিতে চাই । তাহাকে চালনা করিতে দিলে আপনি সে বড়ো হইবার দিকে যাইবেই — তাহাকে গর্তের মধ্যে বাঁধিয়া রাখিলেই তাহার ক্ষুদ্রতা ও বিকৃতি অনিবার্য । বিশ্ববিদ্যালয় সেই চালনার ক্ষেত্র — কারণ সেখানে বুদ্ধিরই ক্রিয়া , সেখানে চিত্তকে সচেতন করারই আয়োজন । সেই চেতনার স্রোত প্রবাহিত হইতে থাকিলে আপনিই